৩৬ কোটি টাকার মেশিনের মেরামতে ব্যয় ২১ কোটি!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার রোধে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দুটি স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করে ৩৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে। তিন বছর পর সেই মেশিন দুটির মেরামত ব্যয় ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ধরে একটি প্রস্তাব আজ বৃহস্পতিবার বেবিচকের বোর্ডসভায় উত্থাপন করা হবে অনুমোদনের জন্য।

 

২০১৬ সালের ৮ মার্চ ঢাকার সঙ্গে আকাশপথে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্রিটিশ সরকার। এর ফলে শুধু যুক্তরাজ্যেই নয়, গোটা ইউরোপেই ঢাকা থেকে আকাশপথে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ থেকে উত্তরণে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা শর্ত অনুযায়ী ২০১৭ সালের শেষ দিকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্ক্যানার মেশিন দুটি বসায় বেবিচক।

 

ব্রিটিশ কোম্পানিরই তৈরি এ দুটি মেশিনের ওয়ারেন্টি ছিল তিন বছর। এ সময়কালে অন্তত ৫০ বার বিকল হয়ে পড়ে এসব বিস্ফোরক শনাক্তকারী মেশিন (ইডিএস)। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেবিচকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় বারবার বিকল হওয়া ইডিএস মেশিনটি ২০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেরামত করতে চাইছে বেবিচক। গত মাসে এ সংক্রান্ত বোর্ডসভায় একটি কার্যপত্র তৈরি করা হয়। কার্যপত্র অনুযায়ী, ইডিএস সরবরাহকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘স্মিথস ডিটেকশন’-এর বাংলাদেশি অংশীদার বা এজেন্ট কোম্পানি ‘মেসার্স নাভানা ইন্টারলিঙ্ক লিমিটেড’ মেশিন দুটি পরিচালনার জন্য দেশি/বিদেশি দুজন প্রকৌশলী নিয়োগ করবে।

 

বারবার বিকলের কারণে শাহজালাল বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো ভিলেজে বিস্ফোরক দ্রব্য স্ক্যানিংয়ের কাজ আটকে যায়। এর পরও ওই একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব মেশিন মেরামত করার প্রস্তাব নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠেছে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচক প্রকৌশল বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ইডিএস মেশিন আমদানিকারক মেসার্স নাভানা ইন্টারলিঙ্ক লিমিটেড’-এর মাধ্যমে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘স্মিথস ডিটেকশন’-এর কাছে বিশ্বের কোন কোন দেশে তারা একই সেবা প্রদান করছে সেসব তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু সেসব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ক্রয়মূল্যের কাছাকাছি ব্যয়ে পুরনো দুটি মেশিন মেরামতেও প্রশ্ন রয়েছে।

 

এ ব্যাপারে ইডিএস মেশিন মেরামতের প্রাক্কলন প্রস্তুতকারী ও বেবিচকের পরিচালক (সিএনএস) মো. হানিফ উদ্দীন আমাদের সময়কে বলেন, মেশিন দুটির ওয়ায়েন্টি গত বছর শেষ হয়ে গেছে। কেনার পর এগুলো অনেকবার নষ্ট হয়। এখন মেশিন দুটি মেরামত খরচের প্রাক্কলন করেছে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আমি এটি বৃহস্পতিবার বেবিচকের বোর্ডসভায় উপস্থাপন করব মাত্র।

 

বেবিচক বলছে, ২০১৬ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার জন্য জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখন মেশিন দুটি ক্রয়ের অনুমোদন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *